আগস্ট

চীনে শিল্প খাতে মুনাফা বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক বিবাদের মাঝে চীনের শিল্প খাতে মুনাফায় উল্লম্ফন দেখা গেছে গত মাসে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক বিবাদের মাঝে চীনের শিল্প খাতে মুনাফায় উল্লম্ফন দেখা গেছে গত মাসে। ওই সময় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মুনাফা বেড়েছে ২০ দশমিক ৪ শতাংশ। এ প্রবৃদ্ধিতে কয়েকটি বিষয় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। কিছু ক্ষেত্রে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চাপ মুনাফা সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এছাড়া আগের বছরের কম আয়, ব্যয় হ্রাস ও বাজারে মৌসুমি কিছু পরিবর্তন এতে ভূমিকা রেখেছে। খবর এফটি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোয় চীনের উৎপাদন খাতে মূল্য প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছিল। মূলত বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত উৎপাদনক্ষমতার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেখান থেকে উত্তরণে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কঠোর নীতি প্রয়োগ করছেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, বার্ষিক আয় ২ কোটি আরএমবি বা প্রায় ২৮ লাখ ডলারের বেশি এমন চীনা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় আগস্টে ২০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে, যা জুলাইয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ পতনের পর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

এছাড়া গত মাসের বৃদ্ধির ফলে চীনের শিল্প খাতে জানুয়ারি-আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে মুনাফা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। অথচ জানুয়ারি-জুলাই এ সাত মাসে মুনাফা ১ দশমিক ৭ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে চীনের অর্থনীতি। এর মধ্যে রয়েছে সম্পত্তি খাতের দীর্ঘমেয়াদি ধীরগতি, অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা এবং বেশকিছু দেশ বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা বাড়তি রফতানি শুল্ক।

চীনের শিল্প খাতে মূল্য প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে অতিরিক্ত উৎপাদনক্ষমতা। বিশেষ করে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) শিল্পে এ পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। বৃহৎ এ খাতে উৎপাদকরা গ্রাহক আকর্ষণ করতে এবং বাজারে অংশীদারত্ব বাড়াতে তীব্র মূল্যযুদ্ধ চালিয়ে আসছিলেন।

চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, নিম্ন ভিত্তির প্রভাব এবং সরকারের ‘একক জাতীয় বাজার’ গঠনের প্রচেষ্টা আগস্টে মুনাফা বাড়াতে সাহায্য করেছে।

চলতি মাসে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র কিউশিতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ব্যবসায়ীদের কিছু নির্দেশনা দেন শি জিনপিং। সেখানে তিনি বলেন, ‘‌টেকসই বাজার গড়তে অগোছালো মূল্য প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে।’

জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর শিল্প বিভাগের প্রধান পরিসংখ্যানবিদ ইউ ওয়েইনিং বলেছেন, ‘শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনো কঠিন ও জটিল এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা অপ্রতুল।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা মানসম্মত এবং অর্থনীতিকে ধারাবাহিক পুনরুদ্ধারে আরো অনুকূল শর্ত তৈরি করতে হবে।’

আগস্টে চীনে শিল্প খাতে মুনাফার উল্লফ্মন ছিল এপ্রিলের পর প্রথম মাসিক বৃদ্ধি। ইউ ওয়েইনিংয়ের মতে, শিল্প খাতে উৎপাদন খরচ কমায় মুনাফা সম্ভব হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনে শুল্ক বিবাদে আপাতত বিরতি থাকলেও এখনো রফতানির জন্য বড় হারে শুল্ক দিতে হচ্ছে এশিয়ার বৃহত্তম এ অর্থনীতিকে। ঋণমান সংস্থা ফিচ রেটিংসের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, আগস্টে কার্যকর শুল্কহার ছিল ৩৪ শতাংশ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আন্তর্জাতিক বাধা এড়াতে বিদেশে কারখানা খুলেছেন চীনের অনেক উৎপাদক। কিন্তু মার্কিন শুল্কনীতিতে ‘তৃতীয় দেশ ব্যবহার করে পুনঃরফতানি’ গণ্য হলে চাপানো হচ্ছে অতিরিক্ত খরচ। এতে পণ্যের ওপর নতুন ৪০ শতাংশ শুল্ক চীনের উৎপাদকদের মুনাফা ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

স্থানীয় চাহিদার দুর্বলতার মাঝে চীনের শিল্প খাতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে। আগস্টে চীনের ভোক্তা মূল্যসূচক আবার মূল্যসংকোচনের দিকে ফিরে গেছে। অন্যদিকে উৎপাদক মূল্যসূচক প্রায় তিন বছর ধরে কমছে।

আরও